কমছে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা

কমছে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা
স্টাফ রিপোর্টারঃ গেলবার হাওরের ফসলডুবির পর এবার বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা সামান্য কমেছে। এবার গেল বছরের চেয়ে ৫শ’ ৩০ হেক্টর কম জমিতে এবার বোরো চাষাবাদের করা হবে। এদিকে, কৃষিবিভাগ জানিয়েছে, হাওরের পানি ধীর গতিতে নামলেও বোরোর বীজতলা তৈরিতে সমস্যা হবে না। সঠিক সময়েই বোরো চাষাবাদ শুরু করতে পারবেন কৃষকরা। 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়- এবছর বোরো আবাদের লক্ষ্য মাত্র ধরা হয়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ৫৫২ হেক্টর। যা গত বছর ছিল ২ লাখ ২৩ হাজার ৮২ হেক্টর। যদিও জেলা অফিস থেকে ঢাকায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে এবছর প্রায় ২লাখ ৪০ হাজার হেক্টর বোরো আবাদের লক্ষ্য মাত্রার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু তা গেল বছরের ফসলডুবিসহ নানা কারণে ফিরিয়ে দেয়া হয়। ফলে গেল বছরের চেয়ে এবার ৫৩০ হেক্টর কম জমিতে বোরো আবাদ হবে।  

বোরো আবাদের লক্ষ্য মাত্রার ২লাখ ২২ হাজার ৫৫২ হেক্টরের মধ্যে হাইব্রিড ৩৪ হাজার ৮৬৫ হেক্টর, উফশী ১লাখ ৮২ হাজার ৪৭২ হেক্টর, স্থানীয় জাতের ৫হাজার ২১৫ হেক্টর। উপজেলা পর্যায়ে সুনামগঞ্জ সদর ১৬ হাজার ৬৯ হেক্টর, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ ২২ হাজার ৩২৯ হেক্টর, দোয়ারা বাজার ১৩ হাজার ৬৩৯ হেক্টর, বিশ্বম্ভরপুর ১১ হাজার ৩৩৫ হেক্টর, জগন্নাথপুর ২০ হাজার ২৬৯ হেক্টর, জামালগঞ্জ ২৪ হাজার ৬০৯ হেক্টর, তাহিরপুর ১৮ হাজার ৩৫৪ হেক্টর, ধর্মপাশা ৩১ হাজার ৭৯৬ হেক্টর, ছাতক ১৪ হাজার ১৯৯ হেক্টর, দিরাই ২৭ হাজার ৯৫৪ হেক্টর, শাল্লা ২১ হাজার ৯৯ হেক্টর জমিতে বারো আবাদের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।  

এদিকে, বোরো আবাদের সঙ্গে বোরোর বীজতলা তৈরি লক্ষ্যামাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ। জেলায় মোট ১০ হাজার ৮৬৫.৮৬ হেক্টর জমিতে বোরোর বীজতলার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে হাইব্রিড ১৩৯৪.৬ হেক্টর, উফশী ৯১২৩.৬ এবং স্থানীয় জাতের ৩৪৭.৬৬ হেক্টর। উপজেলা পর্যায়ে সুনামগঞ্জ সদর ৭৯৩ হেক্টর, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ ১০৯৯ হেক্টর, দোয়ারা বাজার ৬৭৯ হেক্টর, বিশ্বম্ভরপুর ৫৭৫ হেক্টর, জগন্নাথপুর ৯৮৫ হেক্টর, জামালগঞ্জ ১২২১ হেক্টর, তাহিরপুর ৯৪০ হেক্টর, ধর্মপাশা ১৫৮৭ হেক্টর, ছাতক ৭০৩.৬  হেক্টর, দিরাই ১২৯৬.৬ হেক্টর, শাল্লা ৯৮৬.৬৬ হেক্টর। ইতিমধ্যে ধর্মপাশা, ছাতক, দোয়ারা বাজার, তাহিরপুরসহ প্রায় সব উপজেলা বীজতলা তৈরির কাজ শুরু হয়ে গেঝে বলে কৃষিবিভাগ জানিয়েছেন। 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক জাহেদুল হক বলেন, বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা কমেছে, তবে তা খুব সামান্য। আর হাওরের পানি ধীর গতিতে নামলেও বীজতলা তৈরি সমস্যায় পড়বেন না কৃষকরা, ইতিমধ্যেই বীজ তলার কাজ শুরু করেছেন তারা।  যথাসময়েই বোরো আবাদ শুরু করতে পারবেন কৃষকরা। 

Post a Comment

Previous Post Next Post