মালিককে কাঁদিয়ে চলে গেলো রাজলক্ষ্মী


অনলাইন ডেস্কঃরাজলক্ষ্মী নামের হাতিটিকে বাঁচাতে সবধরণের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। অবশেষে মারা গেছে হাতিটি। রাজলক্ষ্মীর মালিক মো. সিরাজুল ইসলাম এতে ভেঙে পড়েছেন। শুক্রবার ভোরে রাজলক্ষ্মী মারা যায় বলে জানা গেছে। এর আগে গত এক সপ্তাহ ধরে হাতিটি মেরুদন্ড ও পাঁয়ে প্রচন্ড- ব্যথা পেয়ে এক পাশ হয়ে শুয়ে ছিল। সে দাঁড়াবার চেষ্টা করলেও দাঁড়াতে পারছিল না। রাজলক্ষ্মী নামের এই হাতিটির ওজন প্রায় ৩ টন। বয়স ৩৫ বছর। ডান পায়ে আঘাত পেয়ে আহত হয়ে পড়ে রয়েছে হাতিটি। বৃষ্টি বা রোদ থেকে রক্ষা পেতে উপরে টানানো রয়েছে ত্রিপল। রাজলক্ষ্মীর সেবায় তার মালিকের সঙ্গে নিয়োজিত রয়েছেন তার সহযোগী- আব্বাস মিয়া, খোরশেদ মিয়া, নাইয়র মিয়া ও হারুণ মিয়া। এদিকে, এক পাশ হয়ে পড়ে থাকা এমন হাতিকে দেখতে প্রতিদিনই মানুষের ভিড় লেগে ছিল মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে। হাতিটির মালিক ও এলাকাবাসী জানান, গত শুক্রবার গভীর রাতে একটি সার্কাস গ্রুপের লোকজন ব্রাহ্মণবাড়ীয়া থেকে ট্রাকে করে এই হাতিটিকে শ্রীমঙ্গলে নিয়ে এসে গরু-মহিষ হাটের উঁচু জায়গাটিতে মৌলভীবাজার রোডের পাশে নামিয়ে দেয়। নামানোর সময় হাতিটি পায়ে প্রচ- ব্যথা পায়। ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষক বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) তবিবুর রহমান। এই হাতিটি বন্য নয়, পালিত। সুতরাং এই বিষয়টির দায়দায়িত্ব বন্যপ্রাণী বিভাগের উপর বর্তায় না। তারপরও তিনি নিজে উদ্যোগ্যে হাতিটিকে দেখে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে সুস্থ করে তোলার চেষ্টা চালাচ্ছেন। মঙ্গলবার তার অবস্থার একটু উন্নতি হলেও বৃহস্পতিবার (২০ জুলাই) চিকিৎসানুযায়ী আশাঅনুরোপ কোনও উন্নতি হয়নি। উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, অবস্থা খুব যে ভালো সেটা বলা যাবে না। মুখে যেহেতু খাবার গ্রহণ করতে পারছে না, তাই তাকে গ্লুকোজ দিয়ে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে। বুধবারের মতো প্রায় ২৫ লিটার ডেক্সট্রোজ স্যালাইন আর ইলেট্রলেট দেওয়া হয়েছে। হাতি অত্যন্ত শক্তিশালী প্রাণী। ছোট-খাটো কোনো আঘাতে সে কখনই কাবু হয়ে পড়ার কথা নয়। দু-এক দিনের মধ্যে রিকভার করবে সেটাও আমরা প্রত্যাশা করছি না। এটি সময়সাপেক্ষ ব্যাপার দেখা যাক কী হয়। আমরা সর্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি বলে জানান, বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ডিএফও মিহির কুমার দো। তিনি আরও বলেন, হাতিটিকে দেখতে আমি মৌলভীবাজার জেলার ভেটেরিনারি সার্জনকেও নিয়ে গিয়েছিলাম। প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের কথা বলে যেটা বুঝলাম ট্রাক থেকে নামানোর সময় হাতির মেরুদণ্ডের যে বোন থাকে সেটা রিপ্লেস হয়ে গেছে এবং স্পাইনাল কডেও সম্ভবত ইঞ্জুরি দেখা দিয়েছে। এজন্য হাতিটি পেছনের অংশটা তুলতে পারছে না।

Post a Comment

Previous Post Next Post