শরণখোলায় পানিবন্দি সহস্রাধিক পরিবার

অনলাইন ডেস্কঃ বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে প্রবল বর্ষণে বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলা সদরের নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পয়নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি আটকে জলাব্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছে সহস্রাধিক পরিবার।  

শরণখোলা উপজেলা সদর রায়েন্দা বাজরের কালিমন্দির, পূর্ব মাথা, পুরাতন পোষ্ট অফিস, হাসপাতাল, টিএন্ডটি, খাদ্য গুদাম এবং পাঁচরাস্তা এলাকার বাসিন্দারা সবচে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন। বাড়ির আঙিনা, চলাচলের রাস্তা এমনকি অনেকেরে ঘরের মধ্যেও পানি উঠে গেছে। রান্নাবান্নসহ স্বাভাকিব কাজকর্মও করতে পারছেন না অনেকে।

রায়েন্দা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোল্লা ইসাহাক আলী, টিএন্ডটি এলাকা বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার এমএ খালেক খান, সাংবাদিক শেখ মোহাম্মদ আলী, পুরাতস পোস্ট অফিস এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য সাগর আক্তারসহ অনেকেই।  

তারা বলেন, সামান্য বৃষ্টি হলেই পানিতে বাড়িঘর তলিয়ে যায়। চারিদিকের পঁচা আবর্জনা পানির সঙ্গে ভেসে আসে। দুর্গন্ধে টেকা দায় হয়ে পড়ে। পানি নিষ্কাশনের নালা এবং সরকারি জলাশয়গুলো অপরিকল্পিতভাবে ভরাট করে পাকা ইমারত ও বাড়িঘর নির্মান করার ফলে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। সরকারিভাবে পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা না করায় মাসের পর মাস পানিবন্দি অবস্থায় থাকতে হয়। এমন অবস্থা থাকলে দুর্ভোগের পাশাপাশি পানিবাহিত নানা রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন ভুক্তোভোগিরা।

রায়েন্দা ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর (সদর ওয়ার্ড) ওয়ার্ডের মেম্বার মো. জালাল আহম্মেদ রুমি জলাব্ধতার কথা স্বীকার করে বলেন, আমার বাড়িও পানিতে তলিয়ে গেছে। এলাকার সহ্রাধিক পরিবার চরম দুর্ভোগে আছে। পরিষদের চেয়ারম্যানের সাথে আলোচনা করে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হবে।  

রায়েন্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান মিলন বলেন, বাজার উন্নয়নের জন্য এলজিইডি’র মাধ্যমে প্রায় ১৫ কোটি টাকার কাজ চলমান রয়েছে। কিন্তু কাজের মান নিয়ে অভিযোগ ওঠায় ঠিকারদার মাঝপথে কাজ বন্ধ করে দেন। ফলে প্রকল্পটি অনিশ্চিৎ হয়ে পড়ে। সড়ক ও গভীর ড্রেন নির্মানের কাজ শুষ্ক মৌসুমেই সম্পন্ন হওয়ার কথা। যথাসময়ে কাজ সম্পন্ন হলে জলাব্ধতার সৃষ্টি হতোনা।  

প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে চেয়ারম্যান বলেন, জনদুর্ভোগ ও জলাব্ধতা নিরশনে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হবে। 

Post a Comment

Previous Post Next Post