অনলাইন ডেস্কঃ
মুসলিম অধ্যুষিত ছয় দেশের নাগরিকের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে সাময়িক
নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালে সুপ্রিম কোর্টে গেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। ১৬
মার্চ ট্রাম্পের নতুন ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে
হাওয়াইয়ের ফেডারেল আদালত ওই নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে। তার আগেই
ম্যারিল্যান্ড নিম্ন আদালত ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের মূল অংশের ওপর
স্থগিতাদেশ দেয়। উভয় আদালতে বলা হয়, এই নিষেধাজ্ঞা মুসলিমদের প্রতি
বৈষম্যমূলক। পরে ২৫ মে ভার্জিনিয়াভিত্তিক যুক্তরাষ্ট্রের সার্কিট আপিল
কোর্ট ম্যারিল্যান্ড নিম্ন আদালতের রায় সমর্থন করে। আর
সানফ্রান্সিসকোভিত্তিক আপিল আদালতে হাওয়াই নিম্ন আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে
শুনানি চলছে। ৬ মার্চ জারি করা ট্রাম্পের নতুন নির্বাহী আদেশে ইরান,
লিবিয়া, সোমালিয়া, সুদান, সিরিয়া ও ইয়েমেনের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে
প্রবেশে ৯০ দিনের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের
গ্রিনকার্ডধারীদের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না। শরণার্থীদের ওপর
নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ রাখা হয়েছে ১২০ দিন, যা ১৬ মার্চ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা
ছিল। ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ স্থগিত করে পৃথক নিম্ন আদালতের দেওয়া রায়
বাতিল করতে ট্রাম্প প্রশাসন সুপ্রিম কোর্টে জরুরি আবেদন করেছে। এক বিবৃতিতে
বিচার বিভাগের মুখপাত্র সারাহ ফ্লোরেজ বলেন, ‘আমরা সুপ্রিম কোর্টকে
গুরুত্বপূর্ণ এই মামলার শুনানির আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছি। সন্ত্রাসবাদ থেকে
আমাদের দেশকে নিরাপদ রাখতে এবং আমাদের সমাজের সুরক্ষার জন্য প্রেসিডেন্ট
ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ আইনসম্মত প্রমাণিত হবে বলেই আমাদের বিশ্বাস। ’
যেসব মার্কিন আইনি সংস্থা ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ চ্যালেঞ্জ করেছে ‘আমেরিকান সিভিল লিবার্টিস ইউনিয়ন’ তার একটি।
ট্রাম্প
প্রশাসনের সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার ঘোষণার জবাবে সংগঠনটির পক্ষ এক টুইটে বলা
হয়, ‘আমরা বিদ্বেষপূর্ণ এই নিষেধাজ্ঞা আটকে দিয়েছি এবং আবারও সেটা করতে
প্রস্তুত। ’ নিম্ন আদালতের স্থগিতাদেশ রুখে দিতে সুপ্রিম কোর্টের নয়
সদস্যের বিচারক বেঞ্চের অন্তত পাঁচ ভোট পেতে হবে ট্রাম্প প্রশাসনকে।
সুপ্রিম কোর্টে বিচারক বেঞ্চ ৫-৪ ব্যবধানে কনজারভেটিভ সংখ্যাগরিষ্ঠ। সেখানে
ট্রাম্প প্রশাসনের আবেদন অনুমোদন পেলে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দ্রুত কার্যকর
হবে। প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণের মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় ২৭ জানুয়ারি
?যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা বিষয়ে প্রথমবার নির্বাহী আদেশ জারি
করেছিলেন ট্রাম্প; যা নিয়ে বিমানবন্দরগুলোয় ব্যাপক বিশৃঙ্খলা ও বিশ্বজুড়ে
বিক্ষোভের মুখে নতুন করে এ বিষয়ে আবারও নির্বাহী আদেশ দেন তিনি। আগের আদেশে
নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশগুলোর তালিকা থেকে ইরাকের নাম পরের আদেশে বাদ
দেওয়া হয়। #বিবিসি।
