বিয়ানীবাজার প্রতিনিধিঃ সিলেট বিভাগের শ্রেষ্ঠ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরস্কার জিতলেও বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ধুঁকছে লোকবল ও পরীক্ষণ যন্ত্রের সংকটে। নানা সীমাবদ্ধতায় বাড়ছে রোগীদের ভোগান্তি। হাসপাতালের আন্তঃবিভাগ, জরুরী বিভাগ এবং বহির্বিভাগে রোগীদের সেবা প্রদানে হিমশিম খাচ্ছেন কর্তব্যরত ডাক্তাররা । এ অবস্থায় দ্রুত সময়ের মধ্যে সংকট নিরসনের উদ্যোগ না নিলে হাসপাতালের সেবার মান নষ্ট হবে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবা গ্রহণ করেন বিয়ানীবাজার, পার্শবর্তী থানা বড়লেখা, জকিগঞ্জ, জুড়ি, কানাইঘাট ও গোলাপগঞ্জের প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ। সেবাগ্রহীতার চাপ বেশি থাকার ফলে প্রসূতি ওয়ার্ড ও সাধারণ ওয়ার্ডের নির্ধারিত শয্যায় রোগীদের সংকুলান হয় না। ফলে বাধ্য হয়ে হাসপাতালের মেঝেতে অবস্থান করেন অনেকেই। এছাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগ নির্ণয়ের যন্ত্র না থাকায় রোগীদের নির্ভর করতে হয় বাহিরের প্রাইভেট ডায়াগনস্টিক প্রতিষ্ঠানগুলোর উপর। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে ডাক্তারের ২১টি পদের মধ্যে শিশু, সার্জারি, চক্ষু, মেডিসিন, নাক-কান-গলা, এনেসথেসিয়া বিভাগে কোন ডাক্তার নেই। ১২ জন ডাক্তার কর্মরত থাকলেও ‘ডেপুটেশনে’ আছেন ১ জন। নার্সের ৬টি পদের মধ্যে ২টি পদ শূন্য। এছাড়া পরীক্ষণ যন্ত্র আলট্রাসনোগ্রাম থাকলেও নেই টেকনিশিয়ান। স্থাপনের পর প্রায় ১১ বছর থেকে বিকল পড়ে আছে বিশ লাখ টাকা মূল্যের এক্সরে মেশিনটি। প্যাথলজিস্ট না থাকায় ওই বিভাগের প্রয়োজনীয় সামগ্রীও মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পথে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একমাত্র এম্বুল্যান্সটি বিকল থাকলেও সম্প্রতি নতুন আরেকটি এম্বুল্যান্স পেয়েছে হাসপাতালটি। প্রায় দেড় বছর আগে সরকার নতুন একটি জেনারেটর হাসপাতালকে প্রদান করলেও টেকনিশয়ান না থাকায় এটিও ব্যবহৃত হচ্ছে না।
এব্যাপারে বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. মোয়াজ্জেম আলী খান বলেন, ‘সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরই সিলেট বিভাগের ৫/৬ উপজেলার রোগীরা বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। কিন্তু এখানে লোকবল সংকট ও যন্ত্রের স্বল্পতার কারণে হাসপাতালের সুনাম ধরে রাখা আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। আশা করি শীঘ্রই এ বিষয়গুলোর সমাধান হলে আমাদের সেবার মান আরো বেশী বৃদ্ধি হবে।’
