নারী প্রতিনিধিত্ব নিয়ে ইসির চিঠির জবাব দিয়েছে ১৬টি দল

নারী প্রতিনিধিত্ব নিয়ে ইসির চিঠির জবাব দিয়েছে ১৬টি দল
অনলাইন ডেস্কঃ সব পর্যায়ের কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্বের অগ্রগতি জানতে চেয়ে নিবন্ধিত ৪০টি রাজনৈতিক দলকে চিঠি দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন (ইসি)। দল গুলোকে জবাব দিতে সময়সীমাও বেঁধে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দিয়েছে মাত্র ১৬টি দল। অর্ধেকের বেশি দল এখনো কিছু জানায়নি। ইসি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। আরপিওর ৯০-এর খ-এর খ (২) অনুচ্ছেদে কেন্দ্রীয় কমিটিসহ রাজনৈতিক দলের সব স্তরের কমিটিতে অন্তত ৩৩ শতাংশ সদস্যপদ নারীদের জন্য সংরক্ষণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ এবং এ লক্ষ্যমাত্রা পর্যায়ক্রমে আগামী ২০২০ সাল নাগাদ অর্জন করার কথা বলা হয়েছে। ২০০৮ সালে নিবন্ধন পদ্ধতি চালুর পর ২০২০ সালের মধ্যে এ শর্ত পূরণের প্রতিশ্রুতি ইসিকে দিয়েছিল রাজনৈতিক দলগুলো। প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত কোনো দলই নারী সদস্য পূরণ করতে পারেনি। গত ১৩ জুন ৪০টি দলের কাছে চিঠি পাঠায় ইসি। ১০ জুলাইয়ের মধ্যে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল। গত মঙ্গলবার পর্যন্ত যে ১৬টি দল প্রতিবেদন দিয়েছে সেগুলো হলো আওয়ামী লীগ, খেলাফত মজলিস, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ), ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি), জাতীয় পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), কল্যাণ পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাকের পার্টি, জাতীয় পার্টি (জেপি), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), গণফ্রন্ট, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (জেপি) ও বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট। ইসি কর্মকর্তারা জানান, দলগুলোর অধিকাংশই ২০২০ সালের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা পূরণের প্রতিশ্রুতির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে তুলে ধরেছে। নির্ধারিত সময় পার হলেও অধিকাংশ দলের সাড়া না পাওয়ায় পরবর্তী করণীয় শিগগির কমিশনের কাছে উপস্থাপন করা হবে বলে জানান তারা। বিপাকে ইসলামি দলগুলো সব পর্যায়ের কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত ইসলামী দলগুলো এখন সেই শর্ত পূরণ নিয়ে বিপাকে রয়েছে। নিবন্ধিত ৪০টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ইসলামি ও ধর্মভিত্তিক দল রয়েছে ১১টি। এগুলোর মধ্যে এমন দলও আছে যেটির কেন্দ্রীয় বা তৃণমূলের কমিটিতেই কোনো নারী সদস্য নেই। শর্ত পূরণে সময় আছে সাড়ে তিন বছর। এ অবস্থায় ইসলামি দলগুলোর নেতারা বলছেন, বাস্তবতা বিবেচনায় তাদের আরও সময় দিতে হবে। নারীর ক্ষমতায়ন ও নারী নেতৃত্বের বিকাশের প্রতি তাদের সমর্থন থাকলেও স্বল্প সময়ে ৩৩ শতাংশ নারী নেতৃত্ব নিশ্চিত করার বিষয়টি চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তারা মনে করছেন। খেলাফত মজলিস ইসিকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে, তাদের কেন্দ্রীয় বা তৃণমূলের কোনো কমিটিতেই কোনো নারী সদস্য নেই। তবে কমিটিতে নারীদের আনার প্রতিশ্রুতি তারা পূরণ করতে চায়। ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মহাসচিব আবুল বাশার মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন জুবাইর জানান, তার দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে নারী সদস্য থাকলেও তৃণমূলে নেই। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই ৩৩ শতাংশ পূরণ করা কঠিন। জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সাংগঠনিক সম্পাদক ওবায়দুল হক ফারুক জানান, তার দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে কয়েকজন নারী সদস্য থাকলেও তৃণমূলের কমিটির অনেক পদ খালি রাখা হয়েছে।

Post a Comment

Previous Post Next Post